শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা (ডেস্ক রিপোর্ট) ॥
প্রতিপক্ষের প্রবল চাপে পিষ্ট হয়েও লড়াইটা অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত লাখো দর্শক আর কোটি ফুটবলপ্রেমী যখন ১০৬ মিনিট ধরে বুক ভরা শ্বাস আটকে রেখেছিলেন, ঠিক তখনই এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফেররান তরেসের জাদুকরী এক গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসবে মেতে উঠল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। রোববারের (১৯ জুলাই ২০২৬) এই ১-০ গোলের মহাকাব্যিক জয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বসেরার মুকুট পুনরুদ্ধার করল স্পেন।
অন্যদিকে, ম্যাচ শেষে মাঠেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন লিওনেল মেসি। কিছুক্ষণ পর তাঁর চোখ বেয়ে নেমে এল কয়েক ফোঁটা অশ্রু। এত কাছে এসেও যে বিশ্বকাপটা হাতছাড়া হয়ে গেল তাঁর দলের!
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত থেকে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অর্জনগুলো। নিচে ২০২৬ বিশ্বকাপের পুরস্কারজয়ীদের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্টসেরা) – রদ্রি (স্পেন): এবারের আসরে সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি জিতেছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে মোট ৭২৬ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। টুর্নামেন্টের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি- সর্বমোট ৬৯২টি নির্ভুল পাস দিয়েছেন তিনি, যার সাফল্যের হার ছিল ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া রক্ষণভাগে ১৩ বার ট্যাকলে জিতে দলকে দিয়েছেন নিরেট সুরক্ষা।
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় – ফেররান তরেস (স্পেন): মেগা ফাইনালের মহানাায়ক ফেররান তরেস। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে তাঁর পা থেকে আসা ওই একমাত্র জয়সূচক গোলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পায় স্পেন। স্বভাবতই ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে।
গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) – কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আসরে প্রতিপক্ষের জালে মোট ১০ বার বল পাঠিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলকিপার) – উনাই সিমন (স্পেন): গোলপোস্টের নিচে পুরো আসরে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে গোল হজম করেছেন মাত্র একটি! তাঁর নামের পাশে রয়েছে চমকপ্রদ ৭টি ক্লিনশিট। আসরে প্রায় ৫৫০ মিনিট জাল অক্ষত রাখার অনন্য কীর্তি গড়ে গোল্ডেন গ্লাভ জিতে নেন তিনি।
সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় – পাউ কুবারসি (স্পেন): মাত্র ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ এই ডিফেন্ডার বিশ্বমঞ্চে নিজের জাত চিনিয়েছেন। পুরো আসরে প্রতিপক্ষ ফরোয়ার্ডরা তাঁর রক্ষণভাগ ভেদ করে মাত্র ১টি গোল করতে পেরেছে। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৩৩ বার বল ক্লিয়ার বা বিপদমুক্ত করে সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি লুফে নেন তিনি।
ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড – নেদারল্যান্ডস: আসরের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল খেলা উপহার দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতেছে নেদারল্যান্ডস। ডাচরা অবশ্য এবারের আসরের শেষ বত্রিশ (রাউন্ড অব থার্টি-টু) থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
| পুরস্কারের নাম | বিজয়ী খেলোয়াড়/দল | বিশেষ পারফরম্যান্স/তথ্য |
| ফাইনালের সেরা | ফেররান তরেস (স্পেন) | ম্যাচের একমাত্র জয়সূচক গোলদাতা (১০৬ মিনিট) |
| গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্টসেরা) | রদ্রি (স্পেন) | ৭২৬ মিনিট খেলা, ৯৪% নিখুঁত পাস, ১৩টি ট্যাকল জয় |
| গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) | কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) | টুর্নামেন্টে মোট ১০টি গোল |
| গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলকিপার) | উনাই সিমন (স্পেন) | ৭টি ক্লিনশিট, মাত্র ১ গোল হজম, ৫৫০ মিনিট অপরাজিত |
| সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় | পাউ কুবারসি (স্পেন) | ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার, ৩৩টি ক্লিয়ারেন্স, ১ গোল হজম |
| ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড | নেদারল্যান্ডস | টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল দল (বিদায় শেষ ৩২ থেকে) |